এক ঐকান্তিক প্রচেষ্টা
ঐকান্তিক প্রচেষ্টাই একটা মিরাকেল ঘটাতে পারে!
আট বছরের একটা ছোট্ট মেয়ে শুনতে পায় তার বাবা-মা তার ছোটো ভাইকে নিয়ে কথা বলছে। সে যেটা বুঝতে পারে, তা হল তার ভাই অনেক অসুস্থ আর তাদের জমানো টাকা-পয়সা প্রায় ফুরিয়ে গিয়েছে।
তারা তাদের বড়ো বাড়ি ছেড়ে দিয়ে একটা ছোটো বাড়িতে চলে গিয়েছে কারণ ডাক্তারের খরচ মেটানোর পর সেই বাড়িতে থাকার সামর্থ্য তাদের আর নেই। কেবল একটা ব্যায়বহুল অপারেশনই তাকে সুস্থ্য করে তুলতে পারে। কিন্তু এমন কোনো ব্যক্তি ছিল না, যিনি তাদের টাকা ধার দিতে পারেন।
ছোট্টো মেয়েটি যখন শুনতে পায় তার বাবা কান্নারত মাকে কানে কানে বলছে কেবল একটা মিরাকেলই তাকে এখন বাঁচাতে পারে, তখন ছোট্ট মেয়েটি তার শোয়ার ঘরে যায় আর ক্লোসেটের মধ্যে গোপন করে রাখা তার পিগি ব্যাংক বের করে আনে। সেটাতে থাকা সমস্ত পয়সা সে নীচে ঢেলে দেয় আর খুব মনোযোগ দিয়ে তা গুণতে থাকে।
পিগি ব্যাংকের ঢাকনা ভালো করে আটকে সে পিছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে কাছাকাছি একটা ঔষধের দোকানে যায়। তার ব্যাংক থেকে আনা কিছু পয়সা হাত দিয়ে ঠেলে কাঁচের জানালার সামনে রাখে।
“তুমি কি চাও খুকি,” ঔষধ বিক্রেতা জিজ্ঞেস করেন।
“আমার ছোটো ভাইয়ের জন্য,” মেয়েটি উত্তর দেয়, “সে আসলে অনেক অসুস্থ আর তাই আমি তার জন্য একটা মিরাকেল কিনতে চাই।”
“আমি বুঝতে পারছি না তুমি কী চাইছ খুকি,” ঔষধ বিক্রেতা উত্তর দেন।
“তার নাম এন্ড্রু আর তার মাথার ভিতর কোনো সমস্যা হয়েছে আর বাবা বলেছে, কেবল একটা মিরাকেলই তাকে সুস্থ্য করতে পারে। একটা মিরাকেলের দাম কত?”
“খুকি আমরা এখানে মিরাকেল বিক্রি করি না।” দুঃখিত হয়ে ছোটো মেয়েটির দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বিক্রেতা উত্তর দেন।
“শুনুন, আমার কাছে কেনার মতো টাকা আছে। এই টাকা যদি যথেষ্ট না হয়, তাহলে আমি আরও আনার জন্য চেষ্টা করব। আমাকে শুধু বলুন মিরাকেলের দাম কত?”
সেই দোকানে পরিপাটি জামা পড়া একজন ক্রেতা দাড়িয়ে ছিলেন। তিনি নিচু হয়ে মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করেন, “খুকি তোমার ভাইয়ের জন্য কোন ধরনের মিরাকেল দরকার?”
চোখ ছল ছল অবস্থায় মেয়েটি বলে, “আমি জানিনা, সেই সত্যিই অনেক অসুস্থ্য, মা বলেছে তার নাকি একটা অপারেশন দরকার। কিন্তু বাবা সেই টাকা দিতে পারছে না, তাই আমি আমার জমানো টাকা নিয়ে এসেছি।”
“তোমার কাছে কত আছে?” সেই ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেন।
“এক ডলার, এগার সেন্ট, কিন্তু আমি চেষ্টা করে আরও কিছু জোগাড় করতে পারব,” সে অস্ফুটো স্বরে বলে।
সেই ব্যক্তি হেসে বলেন, “দেখো-তো কী চমৎকার ব্যাপার! তোমার ভাইয়ের জন্য মিরাকেল কেনের ক্ষেত্রে ঠিক এক ডলার এগার সেন্টই দরকার!”
তিনি একহাতে টাকাগুলো নেন ও অন্য হাত দিয়ে সেই ছোটো মেয়েটার হাত ধরে বললেন, “তোমরা যেখানে থাকে, সেখানো আমাকে নিয়ে চলো। আমি তোমার ভাইকে দেখতে চাই ও তোমার বাবা-মার সঙ্গে কথা বলতে চাই। দেখা যাক তুমি যে-মিরাকেল চাইছ, সেটা আমার কাছে আছে কি না।”
সেই পরিপাটি কাপড় পড়া ব্যক্তি ছিলেন ডাক্তার কার্লটন আর্মস্ট্রং, নিউরো সার্জারির একজন সার্জন ও বিশেষজ্ঞ। কোনো খরচ ছাড়াই সেই অপারেশন করা হয় আর খুব শিঘ্রই এন্ড্রু সুস্থ্য হয়ে ঘরে ফিরে যায়।
“সেই অপারেশন সত্যিই এক মিরাকেল ছিল,“ তার মা ছোট্ট মেয়েটিকে চুপিসারে বলেন। “আমি জানিনা এর জন্য কত খরচ হয়েছে!”
ছোট্ট মেয়েটি মুচকি হাসে। কারণ সে জানে এই মিরাকেলের জন্য ঠিক কত টাকা খরচ হয়েছে ... এক ডলার এগার সেন্ট ও সেই সঙ্গে সেই ছোট্ট মেয়েটির বিশ্বাস!
ঐকান্তিক প্রচেষ্টাই একটা মিরাকেল ঘটাতে পারে!
অনুবাদ - বৈচিত্র
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0